ঠাম্মা একটু অন্যরকম রান্না করবে। মাছ-মাংস নয়, খুব সাধারণ একটি দেশি উপকরণ—কলা গাছের মোচা।
আগেকার দিনে বাড়ির উঠোনে কলাগাছ থাকলে তার মোচা ফেলে দেওয়া হতো না। ঠাম্মা বলতেন,
“যে ঘরে মোচার ঘণ্ট রান্না হয়, সে ঘরে খাবারের কদর করতে হয়।”
আজ সেই পুরনো দিনের মোচার ঘণ্ট হবে একটু সর্ষে-নারকেলের ছোঁয়ায়।
🥥 যা যা লাগবে
- মোচা — ১টি
- আলু — ২টি
- নারকেল কোরানো — ½ কাপ
- সর্ষে — ১ টেবিল চামচ
- পোস্ত — ১ চা চামচ, ইচ্ছেমতো
- কাঁচালঙ্কা — ৩–৪টি
- শুকনো লঙ্কা — ১টি
- পাঁচফোড়ন — ½ চা চামচ
- হলুদ — সামান্য
- লবণ — স্বাদমতো
- চিনি — সামান্য
- সর্ষের তেল — প্রয়োজনমতো
- ঘি — অল্প
👵 ঠাম্মার প্রথম শিক্ষা
মোচা কাটার সময় হাতে সামান্য সর্ষের তেল মেখে নাও। মোচার বাইরের শক্ত অংশ ও ফুলের ভিতরের শক্ত অংশ বাদ দিয়ে ছোট ছোট করে কেটে নিতে হবে।
তারপর লবণ ও হলুদ দিয়ে সেদ্ধ করে জল ঝরিয়ে রাখো।
“মোচা ভালো করে পরিষ্কার না করলে রান্নার স্বাদ কিন্তু নষ্ট হয়ে যাবে”— ঠাম্মার এই কথাটা ভুললে চলবে না।
🍳 এবার রান্না
সর্ষে ও সামান্য পোস্ত ভিজিয়ে কাঁচালঙ্কা দিয়ে মিহি করে বেটে নাও।
কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করে শুকনো লঙ্কা ও পাঁচফোড়ন দাও।
ফোড়নের গন্ধ উঠতেই আলু দিয়ে একটু ভেজে নাও।
এরপর সেদ্ধ করা মোচা দিয়ে ভালোভাবে নাড়তে থাকো।
লবণ, হলুদ ও সামান্য চিনি দিয়ে কিছুক্ষণ রান্না করো।
এবার সর্ষে-পোস্ত বাটা এবং কোরানো নারকেল দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে দাও।
ঢেকে অল্প আঁচে রান্না হতে দাও।
মোচা যখন মশলার সঙ্গে সুন্দরভাবে মিশে যাবে এবং কড়াইতে বাড়তি জল থাকবে না, তখন সামান্য সর্ষের তেল ছড়িয়ে দাও।
শেষে এক চিমটি ঘি।
ব্যস! ঠাম্মার মোচার ঘণ্ট তৈরি।
🍚 কী দিয়ে খাবেন?
গরম ভাতের সঙ্গে এই পদটির আসল স্বাদ।
ভাতের উপর এক চামচ মোচার ঘণ্ট, পাশে কাঁচালঙ্কা—আর যদি দুপুরে গ্রামের উঠোনে বসে খাওয়া যায়, তাহলে তো কথাই নেই!
🌿 ঠাম্মার পুরনো দিনের গল্প
আগে রান্নাঘরে এত রকম সবজি থাকত না। কিন্তু ঠাম্মারা জানতেন, একটি উপকরণকে কীভাবে কয়েকভাবে ব্যবহার করতে হয়।
কলার মোচা দিয়ে ঘণ্ট, চচ্চড়ি, তরকারি—কত কী রান্না হতো!
তখন খাবার নষ্ট করার কথা ভাবাই যেত না।
আজ আমাদের রান্নাঘরে ইন্ডাকশন, মিক্সার, ফ্রিজ—সবই আছে। রান্না অনেক সহজ হয়েছে। কিন্তু ঠাম্মার রান্নার একটা শিক্ষা আজও খুব মূল্যবান—
“খাবারের কদর করো, অপচয় করো না।”
এই কথাটাই নতুন প্রজন্মকে শেখানো দরকার।
❤️ আজকের ঠাম্মার কথা
রান্না বড়লোকের রান্নাঘর চেনে না।
রান্না চেনে ভালোবাসা, ধৈর্য আর ঘরের মানুষের মুখের হাসি।
তাই আজ গ্রাম বাংলার রান্নাঘর থেকে আপনাদের জন্য রইল—
🌾 মাটির গন্ধমাখা মোচার ঘণ্ট
🥥 নারকেলের মিষ্টি সুবাস
🌶️ সর্ষের ঝাঁজ
👵 আর ঠাম্মার পুরনো দিনের গল্প।
— গ্রাম বাংলার রান্না
গ্রাম বাংলা রিপোর্ট

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন