সর্বাধিক পঠিত

উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা চতুর্থ সেমিস্টার: পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কোন কোন অধ্যায় পড়বে, জেনে নাও সম্পূর্ণ গাইড

 পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের প্রকাশিত পাঠ্যক্রম এবং সেমিস্টারভিত্তিক মডেল প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতে এই প্রস্তুতি নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে। 

১. বাংলা চতুর্থ সেমিস্টারের পাঠ্যসূচি এক নজরে

উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ‘ক’ (Bengali-A)-এর প্রচলিত চতুর্থ সেমিস্টারের পাঠ্যসূচিতে নিচের সাহিত্যকর্মগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নিজের বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পাঠ্যক্রমের সঙ্গে তালিকাটি মিলিয়ে নেবে।

বিভাগ পাঠ্য ও লেখক

গল্প হলুদ পোড়া — মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

গল্প হারুণ সালেমের মাসি — মহাশ্বেতা দেবী

কবিতা প্রার্থনা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা তিমির হননের গান — জীবনানন্দ দাশ

কবিতা কেন এল না — সুভাষ মুখোপাধ্যায়

নাটক নানা রঙের দিন — অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়

পূর্ণাঙ্গ সহায়ক গ্রন্থ ডাকঘর — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি বাংলা চিত্রকলার ইতিহাস — সংক্ষিপ্ত রূপরেখা

রচনা বিভাগ প্রবন্ধ রচনা

উৎস: চতুর্থ সেমিস্টারের প্রকাশিত পাঠ্যসূচির অনলাইন বিবরণ। 

২. পরীক্ষার নম্বরবণ্টন ও প্রশ্নের ধরন

প্রকাশিত বাংলা ‘ক’ চতুর্থ সেমিস্টারের পাঠ্যক্রমের বিবরণ অনুযায়ী তত্ত্বীয় পরীক্ষার পূর্ণমান ৪০। প্রশ্নের ধরন সংক্ষিপ্ত উত্তর (SAQ) এবং বিস্তারিত উত্তর (LAQ/DQ) ভিত্তিক। 

কবিতা ৫

নাটক ৫

পূর্ণাঙ্গ সহায়ক গ্রন্থ ১০

বাংলা শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাস ৫

প্রবন্ধ রচনা ১০

মোট ৪০

প্রস্তুতির কৌশল: সহায়ক গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনায় বেশি নম্বর বরাদ্দ থাকায় এই দুই বিভাগে নিয়মিত অনুশীলন করা জরুরি। তবে গল্প, কবিতা ও নাটক বাদ দিয়ে শুধু বেশি নম্বরের বিভাগ পড়া ঠিক হবে না।

৩. গল্প বিভাগ: কীভাবে প্রস্তুতি নেবে?

ক. হলুদ পোড়া — মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

এই গল্পটি পড়ার সময় গল্পের ঘটনাক্রম, চরিত্রগুলির আচরণ, কাহিনির দ্বন্দ্ব এবং লেখকের বক্তব্য ভালোভাবে বুঝতে হবে।

যে বিষয়গুলি প্রস্তুত করবে:

গল্পের নামকরণের তাৎপর্য।

প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বচরিত্রের পরিচয়।

কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং তার পরিণতি।

গল্পে ফুটে ওঠা সামাজিক বাস্তবতা ও মানুষের মনস্তত্ত্ব।

গল্পের মূল বক্তব্য ও লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি।

উত্তর লেখার কৌশল: প্রথমে প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেবে, তারপর পাঠ্য থেকে প্রাসঙ্গিক ঘটনা উল্লেখ করবে এবং শেষে সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন লিখবে। চরিত্র বিশ্লেষণের উত্তরে শুধু চরিত্রের নাম বা গুণাবলি লিখলে হবে না; কাহিনির ঘটনার সাহায্যে বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

খ. হারুণ সালেমের মাসি — মহাশ্বেতা দেবী

এই গল্পের প্রস্তুতিতে কাহিনির পটভূমি, চরিত্রের সম্পর্ক, সামাজিক পরিস্থিতি এবং লেখকের বক্তব্যের দিকে নজর দাও।

সম্ভাব্য অনুশীলনমূলক প্রশ্ন:

1. গল্পের নামকরণের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

2. গল্পের প্রধান চরিত্রের ভূমিকা আলোচনা করো।

3. গল্পে সামাজিক বাস্তবতার যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা ব্যাখ্যা করো।

4. গল্পের মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় লেখো।

5. গল্পের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলি কীভাবে কাহিনির পরিণতিকে প্রভাবিত করেছে, আলোচনা করো।

এগুলি প্রস্তুতির জন্য নমুনা প্রশ্ন, বোর্ডের নিশ্চিত বা হুবহু প্রশ্ন নয়। উত্তর লেখার আগে পাঠ্যবইয়ের মূল কাহিনি ও চরিত্রের নাম মিলিয়ে নেবে।

প্রস্তুতির সময় কবিতার মূলভাব, কবির আকাঙ্ক্ষা, ব্যবহৃত শব্দ ও চিত্রকল্প এবং শিরোনামের তাৎপর্য বুঝে পড়বে। নির্দিষ্ট পঙ্‌ক্তির ব্যাখ্যা করতে হলে তার প্রসঙ্গ ও অন্তর্নিহিত বক্তব্য নিজের ভাষায় প্রকাশ করার অভ্যাস করবে।

তিমির হননের গান — জীবনানন্দ দাশ


কবিতার শিরোনাম, অন্ধকার ও আলোর তাৎপর্য, চিত্রকল্প এবং কবিতার সামগ্রিক বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে পড়বে। কবিতায় ব্যবহৃত প্রতীক বা রূপকের ব্যাখ্যা পাঠ্যের প্রেক্ষিতে করবে।

কেন এল না — সুভাষ মুখোপাধ্যায়

কবিতার কেন্দ্রীয় অনুভূতি, শিরোনামের তাৎপর্য, বক্তার মনোভাব এবং কবিতার অন্তর্নিহিত বক্তব্য বোঝার চেষ্টা করবে। নির্দিষ্ট পঙ্‌ক্তির ব্যাখ্যায় প্রসঙ্গ, অর্থ ও তাৎপর্য আলাদা করে লিখবে।

কবিতা থেকে উত্তর লেখার সহজ কাঠামো

মূলভাব: কবিতাটি সামগ্রিকভাবে কী বলতে চায়।

প্রসঙ্গ: আলোচ্য পঙ্‌ক্তি বা বক্তব্য কোন পরিস্থিতিতে এসেছে।

ব্যাখ্যা: পঙ্‌ক্তির অর্থ ও অন্তর্নিহিত ভাব।

তাৎপর্য: কবিতার সামগ্রিক বক্তব্যের সঙ্গে তার সম্পর্ক।

কবিতার পঙ্‌ক্তি হুবহু মনে না থাকলে ভুল উদ্ধৃতি দেওয়ার পরিবর্তে সঠিক অর্থটি নিজের ভাষায় লেখো।

৫. নাটক বিভাগ: নানা রঙের দিন

নাট্যকার: অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়

নাটক পড়ার সময় কাহিনির পাশাপাশি নাট্যসংলাপ, চরিত্রের মানসিক অবস্থা, মঞ্চপরিস্থিতি এবং নাট্যকারের বক্তব্য বুঝতে হবে।

প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র:

নাটকের নামকরণের তাৎপর্য।

প্রধান চরিত্রের ব্যক্তিত্ব ও মানসিক দ্বন্দ্ব।

সংলাপের মাধ্যমে চরিত্রের ভাব প্রকাশ।

নাটকের কেন্দ্রীয় বক্তব্য।

নাটকের পরিণতি ও তার তাৎপর্য।

উত্তর লেখার কৌশল: নাটকের প্রশ্নের উত্তরে প্রাসঙ্গিক সংলাপ বা ঘটনার উল্লেখ করবে। চরিত্রের আচরণ কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা ব্যাখ্যা করবে। শুধু নাটকের কাহিনি সংক্ষেপে লিখে থেমে গেলে বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর হয় না।

৬. পূর্ণাঙ্গ সহায়ক গ্রন্থ: ডাকঘর

ডাকঘর — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

চতুর্থ সেমিস্টারের প্রস্তুতিতে এই নাটকটির জন্য আলাদা সময় রাখা জরুরি। কাহিনির ধারাবাহিকতা, চরিত্রগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক, প্রতীকী অর্থ এবং নাটকের সামগ্রিক দর্শন বুঝে পড়তে হবে।

কোন কোন বিষয় প্রস্তুত করবে?

1. অমল চরিত্র: তার কৌতূহল, কল্পনাপ্রবণতা, বাইরের জগতের প্রতি আগ্রহ এবং সংলাপের মাধ্যমে প্রকাশিত মানসিকতা।

2. মাধব দত্তের ভূমিকা: অমলের সঙ্গে তার সম্পর্ক, উদ্বেগ ও আচরণের কারণ।

3. ঠাকুরদা ও অন্যান্য চরিত্র: কাহিনিতে তাঁদের ভূমিকা এবং অমলের সঙ্গে সম্পর্ক।

4. ডাকঘরের প্রতীকী তাৎপর্য: নাটকের ঘটনা ও চরিত্রের সঙ্গে ডাকঘরের সম্পর্ক কীভাবে গড়ে উঠেছে, তা পাঠ্য অনুসারে বিশ্লেষণ করবে।

5. নাটকের মূল বক্তব্য: স্বাধীনতা, কল্পনা, জীবনের আকাঙ্ক্ষা ও মুক্তির ভাবনা নাটকে কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে, তা পাঠ্য থেকে উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করবে।

ডাকঘর থেকে অনুশীলনের প্রশ্ন

নাটকের নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো।

অমল চরিত্রের বৈশিষ্ট্য লেখো।

অমলের সঙ্গে মাধব দত্তের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।

নাটকে ডাকঘরের প্রতীকী তাৎপর্য কী?

নাটকের মূল বক্তব্য আলোচনা করো।

এগুলি সম্ভাব্য অনুশীলনমূলক প্রশ্ন। প্রতিটি উত্তরের জন্য নাটকের নির্দিষ্ট ঘটনা ও সংলাপের সঙ্গে মিলিয়ে প্রস্তুতি নেবে।

৭. বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি: বাংলা চিত্রকলার ইতিহাস

এই বিভাগে শুধু শিল্পীর নাম মুখস্থ করলে হবে না। বাংলা চিত্রকলার বিকাশ, বিভিন্ন ধারার বৈশিষ্ট্য এবং উল্লেখযোগ্য শিল্পীদের অবদান সম্পর্কে ধারণা তৈরি করতে হবে।

প্রস্তুতির প্রধান ক্ষেত্র:

বাংলার চিত্রকলার ঐতিহাসিক পটভূমি।

পটচিত্রের ঐতিহ্য ও বৈশিষ্ট্য।

ঔপনিবেশিক যুগে চিত্রকলার পরিবর্তন।

অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বঙ্গীয় শিল্পধারার ভূমিকা।

নন্দলাল বসু এবং আধুনিক ভারতীয় শিল্পকলায় তাঁর অবদান।

লোকশিল্প ও আধুনিক চিত্রকলার পারস্পরিক সম্পর্ক।

উপরের বিষয়গুলি পড়ার সহায়ক ক্ষেত্র হিসেবে দেওয়া হলো। নির্দিষ্ট শিল্পী, সময়কাল ও উদাহরণের তথ্য পাঠ্যবইয়ের সংক্ষিপ্ত রূপরেখার সঙ্গে মিলিয়ে নেবে।

উত্তর লেখার নিয়ম: কোনো শিল্পীর অবদান লিখলে তাঁর নামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পধারা, বৈশিষ্ট্য ও প্রাসঙ্গিক উদাহরণ উল্লেখ করবে। যাচাই না করা সাল বা শিল্পকর্মের নাম লিখবে না।

৮. প্রবন্ধ রচনা: ১০ নম্বরের প্রস্তুতি

প্রবন্ধ রচনায় বিষয়বস্তুর যথার্থতা, অনুচ্ছেদের বিন্যাস, ভাষার স্বচ্ছতা, বানান ও উপসংহার গুরুত্বপূর্ণ।

প্রবন্ধ লেখার আদর্শ কাঠামো

1. শিরোনাম: বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সংক্ষিপ্ত।

2. ভূমিকা: বিষয়টির পরিচয় এবং গুরুত্ব।

3. মূল আলোচনা: কয়েকটি সুসংগঠিত অনুচ্ছেদে কারণ, প্রভাব, সমস্যা, উদাহরণ ও সমাধান।

4. উপসংহার: আলোচনার সারাংশ এবং প্রয়োজনমতো বাস্তবসম্মত পরামর্শ।

অনুশীলনের জন্য সম্ভাব্য বিষয়

পরিবেশ সংরক্ষণ ও ছাত্রসমাজ।

বাংলা ভাষা ও বাঙালির সংস্কৃতি।

আধুনিক জীবনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি।

শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল মাধ্যমের ভূমিকা।

গ্রামীণ উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুফল ও কুফল।

এগুলি সাধারণ প্রবন্ধ অনুশীলনের বিষয়; বোর্ডের নির্ধারিত প্রশ্ন বলে ধরে নেওয়া যাবে না।

৯. সংক্ষিপ্ত উত্তর ও বিস্তারিত উত্তর কীভাবে লিখবে?

প্রশ্নের ধরন লেখার কৌশল

সংক্ষিপ্ত উত্তর (SAQ) প্রশ্নের সরাসরি উত্তর, প্রয়োজনীয় তথ্য এবং সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

বিস্তারিত উত্তর (LAQ) ভূমিকা, মূল বক্তব্য, পাঠ্যভিত্তিক উদাহরণ ও উপসংহার


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন

🎧 LIVE FM RADIO




🔊 Volume