নিজস্ব প্রতিবেদন:
ভারতবর্ষের মানচিত্রে একদিকে পূর্বাঞ্চলের পশ্চিমবঙ্গ টানা ঝড়, ভারী বৃষ্টি ও নিম্নচাপের প্রভাবে কার্যত জলমগ্ন। অন্যদিকে পশ্চিমে মহারাষ্ট্র-এর বিস্তীর্ণ এলাকা এবং দেশের রাজধানী নয়াদিল্লি তীব্র গরম ও জলসংকটে ভুগছে। একই দেশের দুই প্রান্তে প্রকৃতির এই বিপরীত চিত্র জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
পশ্চিমবঙ্গে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপের জেরে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় প্রবল বৃষ্টি, দমকা হাওয়া এবং জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নদীর জলস্তর বৃদ্ধি, কৃষিজমিতে জল জমে যাওয়া এবং শহরাঞ্চলে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে এবং প্রশাসন সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
অন্যদিকে মহারাষ্ট্রের বহু জেলায় দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে জলাধারের জলস্তর নেমে গেছে। পানীয় জলের সংকট মোকাবিলায় অনেক এলাকায় ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে জল সরবরাহ করতে হচ্ছে। কৃষিক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়েছে।
রাজধানী নয়াদিল্লিতেও তীব্র গরমের সঙ্গে পানীয় জলের সংকট মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। বহু এলাকায় সীমিত সময়ের জন্য জল সরবরাহ হচ্ছে, ফলে বাসিন্দাদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাতের ধরন ক্রমশ অনিয়মিত হয়ে পড়ছে। কোথাও অতি বৃষ্টি, কোথাও আবার দীর্ঘ খরা—এই বৈপরীত্য ভবিষ্যতে আরও প্রকট হতে পারে। তাই জল সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
একই দেশের পূর্বে অতিবৃষ্টি আর পশ্চিমে জলকষ্ট—এই বৈপরীত্য শুধু আবহাওয়ার খবর নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা ও জলসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাই হতে পারে এই সংকট মোকাবিলার অন্যতম পথ।

Post a Comment