content='width=device-width, initial-scale=1, minimum-scale=1, maximum-scale=1' name='viewport'/> জ্ঞান ফেরার আগেই হারাল বাবা-মাকে! ৯ মাসের অনাথ দিয়ার পাশে বিধায়ক ও পঞ্চায়েত প্রধান

Top News

জ্ঞান ফেরার আগেই হারাল বাবা-মাকে! ৯ মাসের অনাথ দিয়ার পাশে বিধায়ক ও পঞ্চায়েত প্রধান

 নিজস্ব প্রতিবেদন | পুরুলিয়া:


জন্মের এক মাসের মধ্যেই হারিয়েছিল মাকে। মাত্র ৯ মাস বয়সেই কেড়ে নিল ভাগ্য বাবাকেও। পৃথিবীকে ঠিকমতো চিনে ওঠার আগেই সম্পূর্ণ অনাথ হয়ে গেল পুরুলিয়ার একরত্তি শিশু দিয়া মাহাতো। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। তবে এই কঠিন সময়ে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন বান্দোয়ানের বিধায়ক লবসেন বাস্কে এবং তুমড়াশোল পঞ্চায়েতের প্রধান ঠাকুরমণি মাহাতো।

কী ঘটেছিল?

পুরুলিয়ার বরাবাজার ব্লকের তুমড়াশোল পঞ্চায়েতের মুড়াডি গ্রামের দিনমজুর লব মাহাতো-র স্ত্রী জননী দেবী মেয়ের জন্মের মাত্র এক মাস পরেই মারা যান। তারপর থেকে একাই মেয়েকে মানুষ করার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি একটি মর্মান্তিক মোটরবাইক দুর্ঘটনায় তাঁরও মৃত্যু হয়। মুহূর্তের মধ্যে মা-বাবা দু'জনকেই হারিয়ে সম্পূর্ণ অনাথ হয়ে পড়ে ছোট্ট দিয়া।

অসহায় পরিবারের আর্তনাদ

দিয়ার ঠাকুমা সাবিত্রী মাহাতো বলেন,

"আমাদের জমিজমা নেই। স্বামী দিনমজুরি করে সংসার চালান। এই অবস্থায় কীভাবে নাতনিকে মানুষ করব, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।"

পরিবারের এই অসহায় অবস্থার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এগিয়ে আসেন জনপ্রতিনিধিরা।

মানবিক উদ্যোগ

দিয়ার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে—

প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা দুধের খরচ হিসেবে নিজের ভাতা থেকে দেবেন পঞ্চায়েত প্রধান ঠাকুরমণি মাহাতো।

দিয়া বড় হলে তার পড়াশোনার সমস্ত খরচ বহন করবেন বিধায়ক ও পঞ্চায়েত প্রধান।

ভবিষ্যতে সরকারি হোম, সরকারি প্রকল্প এবং অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা যাতে পায়, সেই ব্যবস্থাও করা হবে।

বিধায়কের বক্তব্য

বান্দোয়ানের বিধায়ক লবসেন বাস্কে বলেন,

"এই ক্ষতি কোনও দিন পূরণ হওয়ার নয়। তবে আমরা সবাই মিলে দিয়ার পাশে থাকব। ও যেন ভালোভাবে মানুষ হতে পারে, সেই দায়িত্ব আমরা নেব।"

মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

দিয়ার জীবনের অপূরণীয় ক্ষতি কোনও সাহায্যই পূরণ করতে পারবে না। তবুও সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে জনপ্রতিনিধিদের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, মানবিকতা এখনও বেঁচে আছে। শোকের অন্ধকারের মাঝেও ছোট্ট দিয়ার জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে এই সহায়তার হাত।

শেষ কথা:

একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে এক শিশুর সবচেয়ে বড় দুই আশ্রয়—মা ও বাবাকে। কিন্তু সমাজ যদি এমনভাবেই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে ছোট্ট দিয়া একদিন মাথা উঁচু করে জীবনযুদ্ধে এগিয়ে যেতে পারবে।


Post a Comment

Previous Post Next Post
Gram Bangla Report
Gram Bangla Report

🎧 LIVE FM RADIO




🔊 Volume