কৃষকদের ভাগ্য ফেরাতে এবং কৃষিব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে বড়সড় ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। আজ বাজেট পেশের সময় তিনি ধান, আলু ও আম চাষিদের জন্য একগুচ্ছ আর্থিক সুরক্ষা ও প্রকল্পের প্রস্তাব রেখেছেন।
ঋণ পেতে এবার মাত্র ১৫ মিনিট: বাজেটের অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো 'ডিজিটাল কিষান ক্রেডিট কার্ড'।
RBI Unified Lending Interface (ULI) ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকরা এখন ডিজিটালি ঋণ পাবেন। অর্থমন্ত্রীর দাবি, এই নতুন ব্যবস্থায় ঋণ অনুমোদনের সময়সীমা ১৫ দিন থেকে কমে ১৫ মিনিটে নেমে আসবে। কাগজের ঝক্কি ছাড়াই মিলবে এই সুবিধা।
ধান চাষিদের জন্য বাম্পার সুবিধা: ধান চাষিদের স্বার্থে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। খারিফ মরশুমে প্রতি কুইন্টালে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (MSP) সঙ্গে অতিরিক্ত ২০০ টাকা উৎসাহমূল্য (Incentive) দেওয়া হবে। পাশাপাশি, ধানের সহায়ক মূল্য ধাপে ধাপে বাড়িয়ে আগামী বছরগুলিতে ৩,১০০ টাকা পর্যন্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। এছাড়া, কেন্দ্রীয় পিএম কিষান প্রকল্পের ৬,০০০ টাকার পাশাপাশি, রাজ্য সরকার প্রতি কৃষক পরিবারকে বছরে অতিরিক্ত ৩,০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা করেছে।
আলু চাষিদের সুরক্ষায় বড় উদ্যোগ: প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বাজার দরের ওঠানামা থেকে আলু চাষিদের বাঁচাতে সরকার প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার প্রিমিয়ামের ৫০ শতাংশ বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া, উন্নত মানের রোগপ্রতিরোধী আলুবীজের অভাব মেটাতে রাজ্য সরকার আই.সি.এ.আর (ICAR)-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করবে। গুণমানসম্পন্ন বীজ বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বাজেটে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
আম রফতানি ও প্রাকৃতিক চাষে জোর: পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বখ্যাত আমকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও জনপ্রিয় করতে সরকার বদ্ধপরিকর। আম চাষিদের আয় বাড়াতে এবং রফতানি উৎসাহিত করতে 'আধুনিক ফসল সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তি' (Post-harvest technology) গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এজন্য ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও ইন্টিগ্রেটেড প্যাক হাউস গড়ে তুলতে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি, সারের ব্যবহার কমাতে প্রাকৃতিক কৃষিকে উৎসাহিত করতে 'পিএম ন্যাশনাল মিশন অন ন্যাচারাল ফার্মিং' প্রকল্পও চালু করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, কৃষকদের আর্থিক বোঝা কমানো, প্রযুক্তির ব্যবহার ও ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই এই বাজেটের মূল ভিত্তি বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

Post a Comment