সর্বাধিক পঠিত

গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি! রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী, কবিগান ও পঞ্চরস যাত্রার জায়গা দখল করেছে ইউটিউব, টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম

 নিজস্ব প্রতিবেদন:

এক সময় গ্রাম বাংলার সন্ধ্যা মানেই ছিল সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। গ্রামের মাঠে বসত রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তীর অনুষ্ঠান, কবিগানের আসর, নাচ-গান, আবৃত্তি, যাত্রাপালা ও পঞ্চরসের জমজমাট পরিবেশনা। ছোট থেকে বড়—সকলেই এই অনুষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে আনন্দ উপভোগ করতেন এবং একে অপরের সঙ্গে সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় করতেন।

কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র আজ অনেকটাই বদলে গেছে। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে বর্তমানে গ্রামের মানুষও ক্রমশ ইউটিউব, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আগ্রহ আগের তুলনায় অনেকটাই কমে গেছে।

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্য

একসময় গ্রামের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো শুধু বিনোদনের মাধ্যম ছিল না, এগুলো ছিল শিক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং লোকসংস্কৃতি রক্ষার অন্যতম প্রধান উপায়। কবিগান, যাত্রা ও আবৃত্তির মাধ্যমে মানুষ ইতিহাস, সমাজ এবং মানবিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারতেন। কিন্তু বর্তমানে ডিজিটাল বিনোদনের দ্রুত প্রসারের কারণে এসব অনুষ্ঠান ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে।

ডিজিটাল মাধ্যমের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক

প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে মানুষ ঘরে বসেই বিশ্বের নানা প্রান্তের বিনোদন উপভোগ করতে পারছেন। নতুন প্রজন্মের কাছে তথ্য ও জ্ঞানের ভাণ্ডারও অনেক বড় হয়েছে। তবে এর পাশাপাশি সামাজিক মেলামেশা কমে যাচ্ছে, লোকসংস্কৃতির চর্চা হ্রাস পাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে শিশু-কিশোররা মোবাইল ও সামাজিক মাধ্যমের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

আগামী প্রজন্ম কীভাবে আনন্দ উপভোগ করবে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী প্রজন্মের আনন্দের মাধ্যম হবে প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির সমন্বয়। যদি স্কুল, ক্লাব ও সামাজিক সংগঠনগুলো নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকগান, কবিগান, নাটক ও যাত্রার আয়োজন করে এবং সেই অনুষ্ঠানগুলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও প্রচার করা হয়, তাহলে নতুন প্রজন্ম ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।

কী করা প্রয়োজন?

১. গ্রামাঞ্চলে নিয়মিত সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন।

২. স্কুলে লোকসংস্কৃতি ও বাংলা সংস্কৃতির চর্চা বৃদ্ধি।

৩. কবিগান, যাত্রা ও লোকগীতির ডিজিটাল সংরক্ষণ।

৪. শিশু-কিশোরদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা।

৫. সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে গ্রামীণ সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনা গ্রহণ।

উপসংহার

প্রযুক্তিকে থামিয়ে রাখা সম্ভব নয়, আবার গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকেও হারিয়ে যেতে দেওয়া যায় না। তাই প্রয়োজন আধুনিকতা ও সংস্কৃতির মধ্যে একটি সুন্দর সমন্বয়। আগামী প্রজন্মের হাতে স্মার্টফোন থাকবে, কিন্তু তার সঙ্গে যদি রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলগীতি, কবিগান ও পঞ্চরস যাত্রার ঐতিহ্যও পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলেই বেঁচে থাকবে গ্রাম বাংলার আত্মা ও সংস্কৃতি।


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন
Gram Bangla Report
Gram Bangla Report

🎧 LIVE FM RADIO




🔊 Volume