অযোধ্যা | ৬ জুলাই ২০২৬
অযোধ্যার রাম মন্দিরকে ঘিরে ওঠা অনুদান ও প্রণামী আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্র-এর পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষ্ণ মোহন-কে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
কী ঘটেছে?
সোমবার ট্রাস্টের সভাপতি গোপাল দাস মহারাজ-এর সভাপতিত্বে রাম জন্মভূমি চত্বরে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশেষ তদন্তকারী দলের (SIT) প্রাথমিক প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নৈতিক দায় স্বীকার করে চম্পত রাই ও অনিল মিশ্র পদত্যাগ করেন এবং ট্রাস্ট সেই পদত্যাগ গ্রহণ করেছে।
CEO নির্বাচনের জন্য তিন সদস্যের কমিটি
ট্রাস্ট নতুন একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) নিয়োগের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সদস্যরা হলেন—
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রমোদ কোহলি
বিষ্ণুকান্ত চতুর্বেদী
সুরেশ হাভদে
এছাড়াও ভবিষ্যতে আর্থিক অনিয়ম রোধে অতিরিক্ত সংস্কারমূলক পদক্ষেপের সুপারিশ করার জন্য পৃথক একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস
ট্রাস্ট জানিয়েছে, অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তারা তদন্তকারী সংস্থাকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে এবং SIT-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিয়োগ ও প্রশাসনিক সংস্কার সংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আর্থিক হিসাব প্রকাশ
ট্রাস্টের দাবি অনুযায়ী—
প্রতিষ্ঠার পর থেকে মোট অনুদান ও চাঁদা সংগ্রহ: ৩,২৬৪ কোটি টাকা
নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যয়: ২,৩৭০ কোটি টাকা
৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রণামী সংগ্রহ: ৫৮২ কোটি টাকা
পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয়: ৩৯১ কোটি টাকা
অবশিষ্ট অর্থ ব্যাংকে সংরক্ষিত রয়েছে।
ট্রাস্ট আরও জানিয়েছে, তাদের আর্থিক হিসাব নিয়মিতভাবে গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিজেপি, সমাজবাদী পার্টি (SP), কংগ্রেস এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)-এর মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এসেছে। অন্যদিকে VHP স্পষ্ট জানিয়েছে, অযোধ্যার রাম মন্দিরের উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
গ্রাম বাংলা রিপোর্টের বিশ্লেষণ
রাম মন্দির ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রকল্প। তাই ট্রাস্টের শীর্ষ পর্যায়ে এই পরিবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের পর প্রশাসনিক কাঠামো, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহল এখন SIT-এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদনের দিকেই নজর রাখছে।

Post a Comment