বিশেষ সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP)-র আন্দোলন এক নতুন মাত্রা লাভ করেছে। প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন আন্দোলন আজ অষ্টম দিনে পদার্পণ করল। শারীরিক ক্লান্তি এবং প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নিজের অবস্থানে অনড় থেকেছেন তিনি।
জনসমুদ্র যন্তর মন্তরে:
আন্দোলনস্থলে উপচে পড়া মানুষের ভিড় এবং ব্যারিকেডের ওপারে শত শত সমর্থকের উপস্থিতি রয়েছে। আজ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যন্তর মন্তরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ৭,০০০ মানুষ সমবেত হয়েছিলেন। এই বিশাল সমাবেশে সাধারণ ছাত্র-যুব সমাজের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রথম সারির নেতারা উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করেন এবং মঞ্চ থেকে জোরালো বক্তব্য রাখেন।
ট্রোলের সংখ্যাই আন্দোলনের 'সাফল্য-পরিমাপক':
অনশনের অষ্টম দিনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে সোনম ওয়াংচুক জানান, দীর্ঘদিন না খেয়ে থাকার কারণে শরীর খুব একটা চনমনে না থাকলেও লড়াইয়ের ময়দানে তিনি এখনও শক্তভাবে টিকে আছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই আন্দোলন নিয়ে চলা সমালোচনা ও কটাক্ষকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন তিনি। তাঁর মতে, সামাজিক মাধ্যমে আন্দোলনের বিরুদ্ধে আসা 'ট্রোল'-এর সংখ্যাই প্রমাণ করে এই আন্দোলন কতটা সফল এবং প্রভাবশালী। বছরের পর বছর ধরে আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, ট্রোলের সংখ্যা সরাসরি আন্দোলনের প্রভাবের সাথে সমানুপাতিক। এই ট্রোলারদের কৌতুকচ্ছলে নিজের ‘সাফল্য-পরিমাপক’ (success-o-meter) হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের "কঠোর পরিশ্রমের" জন্য ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি।
আন্দোলনের মূল দাবি:
শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি মুক্ত করা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনার নৈতিক দায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। আন্দোলনকারীদের দাবি, যতক্ষণ না পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থার এই আমূল সংস্কারের দাবি পূরণ হচ্ছে, ততক্ষণ এই শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক অবস্থান এবং অনশন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

Post a Comment