পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ (Annapurna Yojana) চালু হওয়ার পর সারা রাজ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ১.১ থেকে ১.৩ কোটি মহিলা উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসিক ৩,০০০ টাকা করে জমা পড়েছে। তবে একইসঙ্গে বহু আবেদন বাতিল হওয়ায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় উদ্বেগ ও অভিযোগও বাড়ছে।
কী চলছে বর্তমানে?
✅ কোটি মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা জমা
রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য মহিলাদের আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি DBT-এর মাধ্যমে টাকা পাঠানো হয়েছে। আগে যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন, তাঁদের অনেককেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে।
❌ ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল
সবচেয়ে বড় খবর হলো, প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদন বিভিন্ন কারণে বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
আধার ও ব্যাঙ্কের তথ্যের অমিল
ভুল পারিবারিক তথ্য
নথিপত্র অসম্পূর্ণ থাকা
যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করা
ডুপ্লিকেট আবেদন বা তথ্যগত ভুল
এই কারণে বহু মহিলা এখনও টাকা পাননি।
জেলায় জেলায় কী পরিস্থিতি?
📍 মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, বীরভূম
এই জেলাগুলিতে অনেক আবেদনকারী অভিযোগ করেছেন যে আবেদন জমা দেওয়ার পরেও স্ট্যাটাস দেখাচ্ছে না বা আবেদন বাতিল হয়েছে। অনেকেই সংশোধনের জন্য বিডিও অফিস ও সরকারি ক্যাম্পে ভিড় করছেন।
📍 সরকারি ক্যাম্পে ভিড়
বিভিন্ন জেলায় বিশেষ সহায়তা শিবিরে আবেদনকারীরা—
নাম তালিকায় আছে কিনা যাচাই করছেন,
নথি সংশোধন করছেন,
নতুন আবেদন সংক্রান্ত তথ্য নিচ্ছেন।
কারা এই সুবিধা পাচ্ছেন?
প্রাথমিকভাবে নিম্নলিখিত মহিলারা সুবিধা পাচ্ছেন—
✔ পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা
✔ নির্দিষ্ট বয়সসীমার মধ্যে থাকা মহিলা
✔ আয়করদাতা নন
✔ স্থায়ী সরকারি চাকরিজীবী নন
✔ আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট
যাঁদের টাকা আসেনি, তাঁরা কী করবেন?
১. আবেদন স্ট্যাটাস যাচাই করুন।
২. আধার ও ব্যাঙ্কের তথ্য মিলিয়ে দেখুন।
৩. প্রয়োজন হলে নিকটবর্তী বিডিও অফিস বা সরকারি ক্যাম্পে যোগাযোগ করুন।
৪. আবেদন বাতিল হলে পুনরায় সংশোধনের সুযোগ আছে কিনা জানতে হবে।
📌 গ্রাম বাংলা রিপোর্টের বিশেষ পর্যবেক্ষণ
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প রাজ্যের মহিলাদের জন্য বড় আর্থিক সহায়তা হিসেবে শুরু হলেও, আবেদন বাতিল এবং তথ্যগত সমস্যার কারণে বহু পরিবার এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে সরকার আরও সংশোধন ও পুনর্বিবেচনার সুযোগ দিলে উপভোক্তার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
গ্রাম বাংলা রিপোর্ট | বিশেষ প্রতিবেদন | ৪ জুলাই ২০২৬

Post a Comment