জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি পুরসভা এলাকায় অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অফলাইনে জমা দেওয়া বহু আবেদনপত্র অনলাইনে আপলোড না হওয়ায় হাজার হাজার মহিলা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এই ঘটনায় দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ তুলে ৩২ জন পুরকর্মীকে শো-কজ় নোটিস পাঠানো হয়। শনিবার তাঁরা মহকুমাশাসকের দফতরে হাজির হয়ে নিজেদের বক্তব্য পেশ করেন।
📌 কী নিয়ে বিতর্ক?
ধূপগুড়ি পুরসভা এলাকার বহু মহিলা অভিযোগ করেছেন, তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র পূরণ করে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে দেখা যায়, তাঁদের আবেদন অনলাইনে আপলোডই হয়নি কিংবা যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরকারি আর্থিক সহায়তার টাকা পৌঁছায়নি।
এর পরেই ক্ষুব্ধ উপভোক্তারা পুরসভায় অভিযোগ জানাতে শুরু করেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসতেই তদন্ত শুরু হয়।
📌 কেন শো-কজ়?
অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার ধূপগুড়ি পুরসভার ৩২ জন কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আবেদনপত্রের প্রক্রিয়াকরণে গাফিলতির কারণেই বহু মহিলা সরকারি সুবিধা পাননি।
📌 কী বলছেন পুরকর্মীরা?
শো-কজ় নোটিস পাওয়া কর্মীদের দাবি, তাঁরা সরকারের নির্দেশ মেনেই নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন।
ধূপগুড়ি পুরসভার স্থায়ী কর্মী তন্ময় নন্দী বলেন—
"আমরা সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করেছি। আমাদের কাজে কোনও গাফিলতি ছিল না।"
অন্য এক কর্মী অভয়চন্দ্র বর্মণ বলেন—
"আমাদের কাজ ছিল আবেদনপত্র যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় নথি গ্রহণ করা। অনলাইনে আবেদন আপলোড করার দায়িত্ব ছিল মহকুমাশাসকের দফতরের। সেখানে কোথায় সমস্যা হয়েছে, তা আমাদের জানা নেই।"
📌 মহকুমাশাসকের প্রতিক্রিয়া মেলেনি
এই ঘটনার বিষয়ে মহকুমাশাসকের প্রতিক্রিয়া জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি বলে জানা গিয়েছে।
📌 কী বলছেন বিধায়ক?
নরেশ রায় এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—
"সরকারি কর্মচারীদের গাফিলতির কারণে ধূপগুড়ির অনেক মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। যারা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
⚠️ সাধারণ মানুষের প্রশ্ন
অফলাইনে জমা পড়া আবেদনপত্র অনলাইনে আপলোড হলো না কেন?
প্রযুক্তিগত ত্রুটি নাকি প্রশাসনিক গাফিলতি?
বঞ্চিত মহিলারা কবে তাঁদের প্রাপ্য টাকা পাবেন?
প্রকৃত দায়ী কারা?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর জানতে এখন অপেক্ষা ধূপগুড়িবাসীর।
📰 গ্রাম বাংলা রিপোর্টের বিশ্লেষণ
অন্নপূর্ণা যোজনার মতো জনমুখী প্রকল্পে সামান্য প্রশাসনিক ত্রুটিও হাজার হাজার দরিদ্র পরিবারের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যদি সত্যিই আবেদনপত্র অনলাইনে আপলোড না হওয়ার কারণে মানুষ সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকেন, তবে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং বঞ্চিত মহিলাদের প্রাপ্য টাকা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া প্রশাসনের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
📢 আপাতত ধূপগুড়িতে একটাই প্রশ্ন—
"অন্নপূর্ণার টাকা কবে পাবেন বঞ্চিত মহিলারা?"

Post a Comment