কুচবিহার | ২১ আগস্ট ২০২৬
কুচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের ঘোকসাডাঙ্গা অঞ্চলের বাঘমারা সুখান দিঘী জিপি স্কুলকে ঘিরে উঠে এল চাঞ্চল্যকর চিত্র। শুক্রবার দুপুর ১২টার সময় স্কুল চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। স্কুল ভবনের একাধিক অংশ দীর্ঘদিনের অব্যবস্থার চিহ্ন বহন করছে বলে ছবিতে স্পষ্ট। কোথাও দেওয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে, কোথাও ছাদের অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। পাশাপাশি স্কুলের মাঠে গরু ও ছাগল বাঁধা অবস্থায় দেখা গেছে।
সরকারি একটি তথ্যভান্ডারেও ঘোকসাডাঙ্গা এলাকার Baghmara Sukhan Dighi নামের স্থানটি Mathabhanga-II ব্লকের অধীনে নথিভুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন নথিতে এই স্কুলের মাঠে ক্রিকেট খেলার তথ্যও পাওয়া যায়।
দুপুর ১২টাতেও স্কুল বন্ধ—উঠছে প্রশ্ন
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, স্কুল ভবনের একাধিক দরজা-জানালা বন্ধ। বারান্দা ফাঁকা। অথচ দুপুর ১২টা এমন একটি সময়, যখন স্বাভাবিক স্কুল কার্যক্রম চলার কথা। ফলে স্কুলের পঠন-পাঠন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং দৈনন্দিন পরিচালনা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।
তবে কোনও নির্দিষ্ট দিনে কেন স্কুল বন্ধ ছিল, সেদিন ক্লাস হয়েছিল কি না, শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মীরা কেন উপস্থিত ছিলেন না—এই বিষয়গুলি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তাই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত ও স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ছাদের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ
স্কুল ভবনের ছাদ ও দেওয়ালের দিকে তাকালে দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের চিত্র ফুটে ওঠে। ছবিতে একটি অংশের ছাদ ভেঙে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। টিনের চালের বিভিন্ন অংশও পুরনো ও জীর্ণ।
বিদ্যালয়ের ভবন যদি এমন অবস্থায় থাকে, তাহলে বর্ষাকালে জল পড়া, দেওয়ালের পলেস্তারা খসে পড়া কিংবা দুর্বল কাঠামো থেকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ছোট পড়ুয়াদের স্কুলে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
স্কুলের মাঠে গরু-ছাগল, প্রশ্নে পরিবেশ
স্কুলের মাঠে অন্তত চারটি গরু এবং কয়েকটি ছাগল বাঁধা অবস্থায় দেখা গেছে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ সাধারণত ছাত্রছাত্রীদের খেলাধুলা, প্রার্থনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অন্যান্য বিদ্যালয়ভিত্তিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত হয়।
সেখানে নিয়মিতভাবে গবাদি পশু রাখা হলে মাঠের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। গবাদি পশুর মলমূত্রের কারণে পরিবেশ নোংরা হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই মাঠটি কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।
শুধু ভবন নয়, দরকার নিয়মিত নজরদারি
একটি সরকারি বা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো শুধু একটি ভবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ, সুস্থ পরিবেশ, ব্যবহারযোগ্য শৌচাগার, পরিষ্কার পানীয় জল, নিরাপদ খেলার মাঠ এবং নিয়মিত পঠন-পাঠনের পরিবেশ—সবকিছু মিলেই একটি বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো তৈরি হয়।
সুখান দিঘী জিপি স্কুলের বর্তমান ছবিতে তাই শুধু একটি পুরনো ভবনের সমস্যা নয়, বরং বিদ্যালয়টির সামগ্রিক রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে।
প্রশাসনের দ্রুত নজরদারি জরুরি
স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দাদের বক্তব্য, স্কুলের বর্তমান পরিস্থিতি যদি দীর্ঘদিন ধরে চলে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের উচিত দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করা। ভবনের নিরাপত্তা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় মেরামত, ছাদ সংস্কার এবং বিদ্যালয় চত্বর পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা করা দরকার।
একই সঙ্গে স্কুলের স্বাভাবিক পঠন-পাঠন নির্ধারিত সময়ে হচ্ছে কি না, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কেমন, বিদ্যালয় পরিচালনায় কোনও সমস্যা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
গ্রাম বাংলার স্কুলের বাস্তব চিত্র
সুখান দিঘী জিপি স্কুলের এই ছবি গ্রামবাংলার বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামোগত চ্যালেঞ্জের কথাও মনে করিয়ে দেয়। একটি স্কুল শুধু একটি সরকারি ভবন নয়—সেটি এলাকার শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ার অন্যতম প্রধান জায়গা।
তাই স্কুলের দরজা সময়মতো খোলা থাকা, নিরাপদ ভবনে ক্লাস হওয়া এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পড়ুয়াদের শিক্ষা পাওয়া নিশ্চিত করা প্রশাসন, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সমাজ—সবারই দায়িত্ব।
গ্রাম বাংলা রিপোর্টের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা দপ্তর ও প্রশাসনের কাছে দাবি—সুখান দিঘী জিপি স্কুলটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে ভবনের নিরাপত্তা, পঠন-পাঠনের পরিস্থিতি এবং স্কুল চত্বরের বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখা হোক। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
প্রতিবেদন: গ্রাম বাংলা রিপোর্ট | স্থানীয় পর্যবেক্ষণ ও প্রাপ্ত ছবির ভিত্তিতে


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন