৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | রবিবার | আবহাওয়া ডেস্ক
আজ, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বর্ষার সক্রিয় পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর আজকের সতর্কতা অনুযায়ী গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের পার্বত্য ও সংলগ্ন জেলাগুলিতেও বৃষ্টির প্রবণতা থাকবে। ফলে আজ বাইরে বেরোনোর ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ, কৃষক এবং যানবাহন চালকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
IMD-এর ৬ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ সতর্কতায় গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের জন্য আজ ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রপাত-সহ ঝড়ো আবহাওয়ার সতর্কতা রয়েছে। ৭ সেপ্টেম্বরও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর ফের ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গ ও সিকিম সংলগ্ন অঞ্চলেও আজ ও আগামীকাল ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আজকের সামগ্রিক আবহাওয়ার ছবি
পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় আজ মেঘলা আকাশ এবং দফায় দফায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে, আবার কিছু জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।
বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে কলকাতা আঞ্চলিক আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া
কলকাতায় আজ আকাশ মূলত মেঘলা থাকার সম্ভাবনা। দফায় দফায় বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড় হতে পারে। শহরের নিচু এলাকায় বৃষ্টির জল জমে সাময়িক যানজট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরেও বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। IMD-এর ৭ দিনের জেলা-ভিত্তিক পূর্বাভাসে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে একাধিক দিনে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের জেলা ভিত্তিক পূর্বাভাস
কলকাতা: মেঘলা আকাশ, দফায় দফায় বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের সম্ভাবনা।
হাওড়া: বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ ও ৩০–৪০ কিমি/ঘণ্টা বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা।
হুগলি: বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা। পরবর্তী কয়েক দিনে কোথাও ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।
উত্তর ২৪ পরগনা: বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা। পরবর্তী দিনে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা।
পূর্ব মেদিনীপুর: বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা। পরবর্তী সময়ে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুর: বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা।
ঝাড়গ্রাম: আজ বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পুরুলিয়া: বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা। পরবর্তী দিনে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বাঁকুড়া: বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা; পরবর্তী দিনে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
পূর্ব বর্ধমান: বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা। ৭–১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা পরবর্তী পূর্বাভাসে রয়েছে।
পশ্চিম বর্ধমান: বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা এবং পরবর্তী দিনে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বীরভূম: বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা। পরবর্তী দিনে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
মুর্শিদাবাদ: বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা। জেলার কিছু অংশে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি জলস্তর পরিস্থিতির উপরও নজর রাখা জরুরি।
নদিয়া: বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
উপরের জেলা-ভিত্তিক পূর্বাভাস IMD কলকাতা আঞ্চলিক কেন্দ্রের ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত পূর্বাভাসের ভিত্তিতে সংক্ষেপে সাজানো হয়েছে।
উত্তরবঙ্গে কোথায় বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা?
উত্তরবঙ্গে আজও বৃষ্টির প্রবণতা থাকবে। বিশেষ করে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের মতো জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
IMD-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ৭–১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং ও কোচবিহার বিশেষ নজরে রয়েছে।
উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির সময় ভূমিধস, রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং নদী-নালার জলস্তর বৃদ্ধির মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কৃষিজমিতেও অতিরিক্ত বৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে।
আগামী কয়েক দিনের পূর্বাভাস
৬ সেপ্টেম্বর: গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের সতর্কতা। উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির সঙ্গে কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা।
৭ সেপ্টেম্বর: গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের সম্ভাবনা; উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
৮ সেপ্টেম্বর: গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে আবার ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের সম্ভাবনা।
৯ সেপ্টেম্বর: গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের সম্ভাবনা।
১০ সেপ্টেম্বর: গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে বড় ধরনের সতর্কতা নেই বলে IMD-এর subdivision warning-এ উল্লেখ রয়েছে।
১১–১২ সেপ্টেম্বর: উত্তরবঙ্গ ও সিকিম সংলগ্ন অঞ্চলে আবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।
বৃষ্টির সঙ্গে কী কী সমস্যা হতে পারে?
অতি স্বল্প সময়ে বেশি বৃষ্টি হলে শহর ও গ্রাম—দুই এলাকাতেই সাময়িক জলমগ্নতা তৈরি হতে পারে। নিচু রাস্তা, আন্ডারপাস ও দুর্বল নিকাশি ব্যবস্থার এলাকায় জল জমার ঝুঁকি বেশি।
বজ্রপাতের ঝুঁকিও আজ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে খোলা মাঠ, জলাশয়ের কাছাকাছি এলাকা এবং উঁচু বা বিচ্ছিন্ন গাছের নিচে থাকা বিপজ্জনক হতে পারে। IMD-এর সতর্কতাতেও বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া এবং গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি ও জলাশয় থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ মানুষের জন্য সতর্কতা
বজ্রপাত শুরু হলে খোলা মাঠে অবস্থান না করাই নিরাপদ। গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া উচিত নয়। সম্ভব হলে পাকা বাড়ি বা নিরাপদ ভবনের ভিতরে চলে যেতে হবে।
জলমগ্ন রাস্তায় বিদ্যুতের তার বা খুঁটি থাকলে সেই এলাকা এড়িয়ে চলা উচিত। জল জমা রাস্তায় মোটরবাইক বা ছোট যান নিয়ে যাওয়ার সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
কৃষকদের জন্যও সতর্কবার্তা
বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের সময় খোলা মাঠে কাজ না করাই নিরাপদ। কৃষিকাজের জন্য বাইরে থাকলে আবহাওয়া খারাপ হওয়ার আগেই নিরাপদ স্থানে ফিরে আসা উচিত।
অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে জমিতে জল জমলে দ্রুত নিকাশি ব্যবস্থা করার প্রয়োজন হতে পারে। উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে ভারী বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে থাকা ফসল ও বাগানচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ সতর্কতা: মুর্শিদাবাদ
আজকের আবহাওয়া পরিস্থিতির পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের বন্যা পরিস্থিতিও নজরে রাখা জরুরি। বর্তমান আবহাওয়া তথ্যের সঙ্গে প্রকাশিত সতর্কতায় ফারাক্কায় গঙ্গার জল বিপৎসীমার উপরে থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নদী-সংলগ্ন ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা উচিত।
শেষ কথা
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ পশ্চিমবঙ্গে বর্ষার সক্রিয়তা এখনও যথেষ্ট রয়েছে। আজ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বরও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ফের ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বিশেষ করে বজ্রপাত, ভারী বৃষ্টি বা জলমগ্নতার পরিস্থিতিতে IMD এবং স্থানীয় প্রশাসনের সর্বশেষ সতর্কতা অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন